ব্যারাকপুরের কি রাজের রাজত্ব কায়েম হবে - The News Lion

ব্যারাকপুরের কি রাজের রাজত্ব কায়েম হবে

 


দি নিউজ লায়নঃ     একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর কেন্দ্রের এবারের তৃণমূল প্রার্থী হলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী।  যার জন্ম কাচরাপাড়ায়, বড়ো হওয়া হালিশহরে, আর কলেজ ছিলো নৈহাটিতে। সেই চেনা জেলার ভূমিপুত্র হিসাবে ব্যারাকপুরে প্রার্থী হয়ে রীতিমতো খুশী রাজ চক্রবর্তী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আমার যতোটা ক্ষমতা সবটুকু দিয়েই মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করবো।


 আপ্রাণ চেষ্টা করবো আমার দল তৃণমূলকে জেতাতে। আর আমার তরফে সেটাই হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েকে দেওয়া সব থেকে বড় উপহার।  মূলত  রূপালি পর্দার মানুষ হিসাবে নন, সাধারণ মানুষ হিসাবেই তিনি সকলের সঙ্গে থাকতে চান বলেও জানান। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম রাজনৈতিক শক্র মাটি এই ব্যারাকপুর। এই কেন্দ্রে আগে তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন শীলভদ্র দত্ত। কিন্ত তিনি এখন বিজেপিতে। 


ফলে এই কেন্দ্রে শীলভদ্র দত্তের একটি প্রভাব যে রয়ে গিয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তার উপর এই ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিজেপির অর্জুন সিং। ফলে শীলভদ্র ও অর্জুনের প্রতিপত্তি এই বিধানসভা কেন্দ্রে যে থাকবে সেটাও অজানা নয় কারোরই। তার উপর গোটা জেলার মধ্যে গত কয়েক বছরের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, এই ব্যারাকপুরেই রাজনৈতিক হিংসা এবং অশান্তির ঘটনা ঘটেছে সবথেকে বেশী। 


রাজনৈতিক উত্তাপের পারদটাও এখানে বরাবরই উর্ধমুখী। সিপিএমের সেই তড়িত বরন তোপদারের জমানা থেকে অর্জুন সিংযের জমানায় সেই বহমান ধারা যেন কোথাও মিলেমিশে এক হয়ে রয়েছে। ফলে এমন একটি রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে রাজ চক্রবর্তীর মতো সেলেব দুনিয়ার একজন ব্যাক্তিত্ব কতোটা লড়াই দিতে পারবেন সেটাই এখন সবথেকে বড়ো প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলের কাছে। 


তবে প্রার্থী হয়েই রাজ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যারাকপুর মাসল পাওয়ার ওরিয়েন্টেড এলাকা। যেখানে সবাইকে ডমিনেট করে রাখা হয়। তাই আমি চেষ্টা করবো শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার। ফলে এই কেন্দ্রে যে লড়াইটা বড্ড কঠিন তা হয়তো প্রথমেই বুঝতে পেরেছেন রাজ। ফলে সেলেব দুনিয়া থেকে এসে দলের সাংগাঠনিক ভিতের  উপর দাঁড়িয়ে তিনি কতোটা লড়াই দিতে পারবেন সেটাই মূল বিষয়। 


রাজনীতিতে শান্তির বার্তা দিয়ে তিনি ব্যারাকপুরের মতো কেন্দ্রে কীভাবে শেষ হাসি হাসবেন সেটা বিস্ময়ের মনে হতে পারে অনেকের কাছে। কিন্ত মমতা যে কৌশলের উপর ভর করে এই কেন্দ্রে রাজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছেন সেই কৌশলের অঙ্ক মেনে শান্তির বার্তা দিয়ে রাজ যদি জয়ী হয়ে দেখাতে পারেন তাহলে ব্যারাকপুর কেন্দ্রে নয়া ইতিহাস তৈরি হয়ে যেতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকেই।  তবে এখন সেটা সময়ের অপেক্ষা।  

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.